Privacy Policy

Showing posts with label রবীন্দ্র. Show all posts
Showing posts with label রবীন্দ্র. Show all posts

Sunday, 22 July 2012

গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ

গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ
আমার মন ভুলায় রে।
ওরে কার পানে মন হাত বাড়িয়ে লুটিয়ে যায় ধুলায় রে।।
ও যে আমায় ঘরের বাহির করে, পায়ে-পায়ে পায়ে ধরে
মরি হায় হায় রে।
ও যে কেড়ে আমায় নিয়ে যায় রে; যায় রে কোন্ চুলায় রে।
ও যে কোন্ বাঁকে কী ধন দেখাবে, কোন্খানে কী দায় ঠেকাবে–
কোথায় গিয়ে শেষ মেলে যে ভেবেই না কুলায় রে।।

সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে

সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে, শোনো শোনো পিতা।
কহো কানে কানে, শুনাও প্রাণে প্রাণে মঙ্গলবারতা।।
ক্ষুদ্র আশা নিয়ে রয়েছে বাঁচিয়ে, সদাই ভাবনা।
যা-কিছু পায় হারায়ে যায়, না মানে সান্ত্বনা।।
সুখ-আশে দিশে দিশে বেড়ায় কাতরে–
মরীচিকা ধরিতে চায় এ মরুপ্রান্তরে।।
ফুরায় বেলা, ফুরায় খেলা, সন্ধ্যা হয়ে আসে–
কাঁদে তখন আকুল-মন, কাঁপে তরাসে।।
কী হবে গতি, বিশ্বপতি, শান্তি কোথা আছে–
তোমারে দাও, আশা পূরাও, তুমি এসো কাছে।। ।

কিছু বলব বলে এসেছিলেম

কিছু বলব বলে এসেছিলেম,
রইনু চেয়ে না বলে।।
দেখিলাম, খোলা বাতায়নে মালা গাঁথ আপন-মনে,
গাও গুন্-গুন্ গুঞ্জরিয়া যূথীকুঁড়ি নিয়ে কোলে।।
সারা আকাশ তোমার দিকে
চেয়ে ছিল অনিমিখে।
মেঘ-ছেঁড়া আলো এসে পড়েছিল কালো কেশে,
বাদল-মেঘে মৃদুল হাওয়ায় অলক দোলে।।

যেতে যেতে একলা পথে

যেতে যেতে একলা পথে নিবেছে মোর বাতি।
ঝড় এসেছে ওরে ওরে, ঝড় এসেছে ওরে এবার
ঝড়কে পেলেম সাথি॥
আকাশকোণে সর্বনেশে ক্ষণে ক্ষণে উঠছে হেসে,
প্রলয় আমার কেশে বেশে করছে মাতামাতি॥
যে পথ দিয়ে যেতেছিলেম ভুলিয়ে দিল তারে,
আবার কোথা চলতে হবে গভীর অন্ধকারে।
বুঝি বা এই বজ্ররবে নূতন পথের বার্তা কবে—
কোন্ পুরীতে গিয়ে তবে প্রভাত হবে রাতি॥

তুমি কি কেবলই ছবি

তুমি কি কেবলই ছবি, শুধু পটে লিখা।
ওই-যে সুদূর নীহারিকা
যারা করে আছে ভিড় আকাশের নীড়,
ওই যারা দিনরাত্রি
আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী গ্রহ তারা রবি,
তুমি কি তাদের মত সত্য নও।
হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি।।
নয়নসমুখে তুমি নাই,
নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই– আজি তাই
শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল।
আমার নিখিল তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল।
নাহি জানি, কেহ নাহি জানে–
তব সুর বাজে মোর গানে,
কবির অন্তরে তুমি কবি–
নও ছবি, নও ছবি, নও শুধু ছবি।।

শুধু তোমার বাণী নয় গো

শুধু তোমার বাণী নয় গো, হে বন্ধু, হে প্রিয়,
মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিয়ো॥

সারা পথের ক্লান্তি আমার সারা দিনের তৃষা
কেমন করে মেটাব যে খুঁজে না পাই দিশা—
এ আঁধার যে পূর্ণ তোমায় সেই কথা বলিয়ো॥

হৃদয় আমার চায় যে দিতে, কেবল নিতে নয়,
বয়ে বয়ে বেড়ায় সে তার যা-কিছু সঞ্চয়।
হাতখানি ওই বাড়িয়ে আনো, দাও গো আমার হাতে—
ধরব তারে, ভরব তারে, রাখব তারে সাথে,
একলা পথের চলা আমার করব রমণীয়॥

Tuesday, 17 July 2012

মোর ভাবনারে কি হাওয়ায়

মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।।
হৃদয় ও গগনে সজলও ঘন
নবীনও মেঘে রসের ও ধারা বরষে
মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।
তাহারে দেখি না যে দেখি না
শুধু মনে মনে ক্ষণে ক্ষণে ঐ শোনা যায়
বাজে অলকিত তার চরণে।।
রুনু রুনু রুনু রুনু নূপুর ও ধ্বনি
মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।।

গোপনও স্বপনে ছাইলও
অপরসও আঁচলেরও নব নীলিমায়
উড়ে যায় বাদলের ও এই বাতাসে
তার ছায়াময় এলো কেশ আকাশে
সে যে মনও মোর দিলো আকুলি
জল ভেজা কেতকীর দূর সুবাসে
মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।।
হৃদয় ও গগনে সজলও ঘন
নবীনও মেঘে রসের ও ধারা বরষে
মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।।

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
দেখতে আমি পাইনি তোমায়
দেখতে আমি পাইনি

বাহির পানে চোখ মেলেছি
বাহির পানে
আমার হ্রদয় পানে
চাইনি আমি

আমার সকল ভালোবাসায়
সকল আঘাত, সকল আশায়
তুমি ছিলে আমার কাছে
তুমি ছিলে

আমি তোমার কাছে যাইনি

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে …..

তুমি মোর আনন্দ হয়ে
ছিলে আমার খেলায়
আনন্দে তাই ভুলে ছিলেম
কেটেছে দিন হেলায়
গোপন রহি গভীর প্রানে
আমার দুঃখ সুখের গানে

সুর দিয়েছ তুমি , আমি তোমার গান তো গাই নি

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
দেখতে আমি পাইনি , আমি দেখতে আমি পাইনি

বড় আশা করে এসেছি

বড় আশা করে এসেছি গো
কাছে ডেকে লও
ফিরাইও না জননী।

দিনহীনে কেহ চাহে না
তুমি তারে রাখিবে জানি গো।
আর আমি যে কিছু চাহিনে
চরণও তলে বসে থাকিব,
আর আমি যে কিছু চাহিনে
জননী বলে শুধু ডাকিব ।

তুমি না রাখিলে গৃহ আর পাইব কোথায়
কেঁদে কেঁদে কোথা বেড়াব
ঐ যে হেরী
তমশ ঘন ঘরা
গহন রজনী ।

আমার ও পরান ও যাহা চায়

আমার ও পরান ও যাহা চায়
তুমি তাই , তুমি তাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

তুমি সুখ ও যদি নাহি পাও
যাও সুখের ও সন্ধানে যাও …(২ বার)

আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয় ও মাঝে
আর ও কিছু নাহি চায় গো ও

আমার ও পরান ও যাহা চায়
তুমি তাই তুমি তাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

আমি তোমার ও বিরহে
রহিব বিলীন ও
তোমাতে করিব বাস
দীর্ঘ দিবস ও , দীর্ঘ রজনি
দীর্ঘ বরস ও মাস … (২ বার)

যদি আর ও কারে ভালবাসো
যদি আর ও ফিরে নাহি আসো … (২ বার)
তবে তুমি যাহা চাও
তাই যেন ও পাও
আমি যত ও দুঃখ পাই গো

আমার ও পরান ও যাহা চায়
তুমি তাই তুমি তাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

আজি ঝরো ঝরো মুখরিত বাদল দিনে

আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
জানি নে, জানি নে
কিছুতেই কেন যে মন লাগে না ।।

এই চঞ্চল সজল পবন-বেগে
উদ্ভ্রান্ত মেঘে মন চায়
মন চায় ঐ বলাকার পথখানি নিতে চিনে ।।

মেঘমল্লারে সারা দিনমান
বাজে ঝরনার গান ।

মন হারাবার আজি বেলা
পথ ভুলিবার খেলা
মন চায় …মন চায় …
হৃদয় জড়াতে কারো চির -ঋণে

আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে . . .

জানি নে জানি নে … কিছুতে কেন যে মন লাগে না

আমার ও পরান ও যাহা চায়

আমার ও পরান ও যাহা চায়
তুমি তাই , তুমি তাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

তুমি সুখ ও যদি নাহি পাও
যাও সুখের ও সন্ধানে যাও …(২ বার)

আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয় ও মাঝে
আর ও কিছু নাহি চায় গো ও

আমার ও পরান ও যাহা চায়
তুমি তাই তুমি তাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

আমি তোমার ও বিরহে
রহিব বিলীন ও
তোমাতে করিব বাস
দীর্ঘ দিবস ও , দীর্ঘ রজনি
দীর্ঘ বরস ও মাস … (২ বার)

যদি আর ও কারে ভালবাসো
যদি আর ও ফিরে নাহি আসো … (২ বার)
তবে তুমি যাহা চাও
তাই যেন ও পাও
আমি যত ও দুঃখ পাই গো

আমার ও পরান ও যাহা চায়
তুমি তাই তুমি তাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো
আমার ও পরান ও যাহা চায়

পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়

পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।
ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা,
সে কি ভোলা যায়।।

আয় আর একটিবার আয় রে সখা
প্রাণের মাঝে আয়।
মোরা সুখের দুখের কথা কব
প্রাণ জুড়াবে তায়।

মোরা ভোরের বেলা ফুল তুলেছি, দুলেছি দোলায়
বাজিয়ে বাঁশি গান গেয়েছি বকুলের তলায়।

হায় মাঝে হল ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায়
আবার দেখা যদি হল, সখা, প্রাণের মাঝে আয়।

Monday, 16 July 2012

শাওনগগনে ঘোর ঘনঘটা

শাওনগগনে ঘোর ঘনঘটা, নিশীথযামিনী রে।
কুঞ্জপথে, সখি, কৈসে যাওব অবলা কামিনী রে।
উন্মদ পবনে যমুনা তর্জিত, ঘন ঘন গর্জিত মেহ।
দমকত বিদ্যুত, পথতরু লুন্ঠিত, থরহর কম্পিত দেহ
ঘন ঘন রিমঝিম, রিমঝিম রিমঝিম, বরখত নীরদপুঞ্জ।
শাল-পিয়ালে তাল-তমালে নিবিড়তিমিরময় কুঞ্জ।
কহ রে সজনী, এ দুরুযোগে কুঞ্জে নিরদয় কান
দারুণ বাঁশী কাহে বজায়ত সকরুণ রাধা নাম।
মোতিম হারে বেশ বনা দে, সীঁথি লগা দে ভালে।
উরহি বিলুন্ঠিত লোল চিকুর মম বাঁধহ চম্পকমালে।
গহন রয়নমে ন যাও, বালা, নওলকিশোরক পাশ।
গরজে ঘন ঘন, বহু ডর পাওব, কহে ভানু তব দাস।।

Sunday, 15 July 2012

মায়াবন বিহারীনি হরিনী

মায়াবন বিহারীনি হরিনী
গহন স্বপন সঞ্চারিণী
কেন তারে ধরিবারে করি পণ- অকারণ
মায়াবন বিহারীনি
থাক থাক নিজ মনে দূরেতে
আমি শুধু বাশরীর সুরেতে ।।
পরশ করিব ওর প্রাণমন – অকারণ
মায়াবন বিহারীনি
চমকিবে ফাগুনেরও পবণে
পশিবে আকাশবাণী শ্রবণে ।।
চিত্ত আকুল হবে অনুক্ষন – অকারণ
দূর হতে আমি তারে সাধিব
গোপনে বিরহডোরে বাঁধিব ।।
বাঁধনবিহীন সে যে বাঁধন – অকারণ
মায়াবন বিহারীনি হরিনী
গহন স্বপন সঞ্চারিণী
কেন তারে ধরিবারে করি পণ- অকারণ
মায়াবন বিহারীনি